Sodium-Intake And Health: খাবার থেকে ছেঁটে ফেলুন অতিরিক্ত সোডিয়াম, ক্রনিক রোগ থেকে দূরে থাকবেন!

By | April 7, 2022


সোডিয়ামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হল সোডিয়াম। রোজকার যে নুন আমরা খাবারে ব্যবহার করি তার মধ্যেই প্রচুর পরিমাণে থাকে এই খনিজ। খাবারের স্বাদ বাড়াতে ভূমিকা রয়েছে এই নুনের। শরীরের জন্য রোজ ৫০০ মিলিগ্রাম সোডিযয়ামের প্রয়োজন আছে। বিভিন্ন শারীরিক ক্রিয়া ঠিক রাখতে এই পরিমাণ সোডিয়ামই যথেষ্ট। সেই সঙ্গে সোডিয়ামের আধিক্য কিন্তু একাধিক শারীরিক সমস্যা ডেকে আনতে পারে। আর তাই প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য সোডিয়াম গ্রহণের একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি বেছে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই মাপকাঠি অনুযায়ী দৈনিক ৫ গ্রামেরও কম নুন খাওয়া উচিত। যা কিন্তু পুরোপুরি এক চামচও নয়। কিন্তু আমরা সকলেই রোজকার খাবারে এক চামচের থেকে অনেকটাই বেশি নুন খাই।

এবার নুন বেশি খেলেই কিন্তু আসে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাই শিশু ও বয়স্কদের পরামর্শ দিচ্ছে মেপে নুন খাওয়ার জন্য। সোডিয়াম আমাদের শরীরের পক্ষে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরের মধ্যেকার তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে। স্নায়ু এবং পেশির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কিন্তু ভূমিকা আছে সোডিয়ামের। আর তাই অতিরিক্ত সোডিয়াম খেলে কিন্তু পড়তে পারেন একাধিক সমস্যায়। যে খান থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা বেশ কঠিন।

সোডিয়ামের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে গেলে কিন্তু আমাদের শরীরে জলের ভাগ বেড়ে যায়। ফলে শরীর বেশি পরিমাণে জল ধরে রাখে। আর যেখান থেকে চাপ পড়ে রক্তনালীতে। তখন প্রচুর পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত হয়। রক্তনালীর উপর চাপ বাড়ায় হৃৎপিন্ড থেকে পাম্পিং পদিধতির সাহায্যে বিভিন্ন অংশে রক্ত পৌঁছতে বাধা পায়। আর যেখান থেকে কিন্তু আসে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা।

উচ্চ রক্তচাপের কোনও উপসর্গ থাকে না। যে কারণে একে নীরব ঘাতক বলা হয়। দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, সোডিয়াম কম খেলে তা কিন্তু হার্টের রোগীদের জন্য ভাল। কারণ এতে হার্ট খেলিওয়ের সম্ভাবনা কমে। সেই সঙ্গে কমে মৃত্যুহারও। গবেষণায় দেখা গিয়েছে নুন কম খেলে ক্লান্তি কমে। আর শরীরে ফোলাভাবও কিন্তু অনেকটাই কমে যায়।

যে সব ব্যক্তিদের উপর এই গবেষণা চালানো হয়, তাঁরা গবেষণার আগে রোজ গড়ে ২,২১৭ মিলিগ্রাম করে নুন খেতেন। পরে সেই সোডিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে ২,০৭২ মিলিগ্রাম করেন। কিন্তু তাতেও সমস্যা থেকে যাচ্ছিল। পরে পুষ্টিবিদের পরামর্শে তা কমিয়ে ১,৬৫৮ মিলিগ্রাম করেন। কম সোডিয়াম খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্যের যেমন উন্নতি হয়েছে তেমনই কিন্তু কমেছে হৃদরোগের ঝুঁকিও।

প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নুন খেলে ধমনীতে রক্তের পরিমাণ বাড়ে এবং রক্তচাপ বাড়ে। যে কারণে কিন্তু মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বাধা পায়। আর এই রক্তচাপ বাড়ার কারণে কিন্তু সেখান থেকে স্ট্রোকের ঝুঁকিও থেকে যায়। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বিসে, করে প্রসেসড ফুড, ফাস্ট ফুড এসব এড়িয়ে চলতেই হবে। নইলে যেমন চর্বি জমবে তেমনই কিন্তু কোলেস্টেরলের পরিমাণও বাড়বে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর যত মৃত্যু হয় তার অধিকাংশের ক্ষেত্রেই কিন্তু কারণ থাকে এই সোডিয়াম যুক্ত খাবার বেশি খাওয়া। দেখা গিয়েছে সোডিয়ামের পরিমাণ কমাতেই কিন্তু কমেছে মৃত্যুহারও। সবুজ শাক-সবজি, ফল এসব বেশি পরিমাণে খান। তাহলে নুন খাওয়ার আর সেই ইচ্ছেটাও কিন্তু থাকবে না।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কোনও ওষুধ বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।



Source link