Congress Allies slam Rahul: ‘আমরা কী নীতি-আদর্শ ছাড়াই দল চালাচ্ছি নাকি?’ রাহুলকে পাল্টা কংগ্রেসের ‘বন্ধু’ দলগুলির

By | May 17, 2022


বক্রোক্তি হজম করতে হল রাহুলকে

Rahul Gandhi: বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আঞ্চলিক দলগুলির মতাদর্শগত অভাব রয়েছে বলেই মত রাহুলের। আর এই নিয়েই বেজায় চটে রয়েছে কংগ্রেসের বন্ধু দলগুলি। অনেক জোটসঙ্গী তো প্রকাশ্যে বক্রোক্তি করতেও ছাড়েননি।

নয়া দিল্লি : লক্ষ্য ২০২৪ সাল। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাতে রাজস্থানে চিন্তন শিবিরে বসেছিল কংগ্রেস। ছিলেন দলের সব তাবড় নেতারা। চিন্তন শিবির থেকে কার্যত আঞ্চলিক দলগুলির মতাদর্শ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আঞ্চলিক দলগুলির মতাদর্শগত অভাব রয়েছে বলেই মত রাহুলের। আর এই নিয়েই বেজায় চটে রয়েছে কংগ্রেসের বন্ধু দলগুলি। অনেক জোটসঙ্গী তো প্রকাশ্যে বক্রোক্তি করতেও ছাড়েননি। আঞ্চলিক দলগুলি কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে কংগ্রেসকে। তাদের বক্তব্য, কংগ্রেসের এখন বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে। কংগ্রেস এখন আর একক বিরোধী দল নেই।

উল্লেখ্য, জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের নির্বাচনে হোক বা ২০১৯ সালের নির্বাচন – ভোট রাজনীতিতে দাঁত ফোটানোর সুযোগ পায়নি কংগ্রেস। তবে আঞ্চলিক স্তরে বেশ কিছু দল সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে বিজেপিকে আটকে দিয়েছে। তেমনই একটি দল হল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। কংগ্রেসের বন্ধু দল। ঝাড়খণ্ডে জেএমএম ও কংগ্রেস জোট সরকার চালাচ্ছে। কিন্তু রাহুল গান্ধীর এমন মন্তব্যের পর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে জেএমএম। তারা জানিয়েছে, “এটি রাহুল গান্ধীর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন এবং অবশ্যই তাঁ নিজের মতামত জানানোর অধিকার রয়েছে। কিন্তু মতাদর্শ নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষমতা তাঁকে কে দিয়েছে? আমরা কি কোনও আদর্শ ছাড়াই দল চালাচ্ছি?”

উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মুখপাত্র সুপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, “বিষয়টি হল এই আঞ্চলিক দলগুলির উপরেই কংগ্রেস লড়াইের জন্য বা জয়ের জন্য নির্ভর করে থাকে। তা ঝাড়খণ্ডে জেএমএম হোক বা বিহারে আরজেডি হোক।” উল্লেখ্য, চিন্তন শিবিরে রাহুল বলেছেন, “আরএসএস-এর আক্রমণের বিরুদ্ধে কংগ্রেস একটি মতাদর্শগত প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। কিন্তু আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে মতাদর্শের অভাব রয়েছে”।

রাহুলের এই ধরনের মন্তব্য বিরক্ত আরও এক বন্ধু গল আরজেডিও। রাহুল গান্ধীর এ হেন বক্তব্যকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলেই মনে করছে তারা। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা বলেন, “কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি যদি বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ের ফলাফল সম্পর্কে সচেতন থাকতেন তবে তিনি আঞ্চলিক দলগুলির মতাদর্শ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি উপলব্ধি করতে পারতেন।”

কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ডিএমকে-র নেতারা অবশ্য এখনই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাইছেন না। বেশ কয়েকজন নেতার থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে তাঁরা দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। বাংলায় কংগ্রেস ও সিপিএম একসঙ্গে নির্বাচনী লড়াই লড়েছে গত বিধানসভা নির্বাচনে। কিন্তু রাহুলের এই ধরনের মন্তব্যকে সমর্থন করছে না বামেরাও। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি কোচিতে একটি দলীয় সম্মেলনে বলেন: “অতীতের তুলনায়, কংগ্রেস আজ যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিজেপি এবং আরএসএসের অনেকেই কংগ্রেসকে আর সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন না। কারণ, এর যে কোনও নেতা, যে কোনও সময়ে, দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।”

তীব্র কটাক্ষ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টিও। উল্লেখ্য, এই দুটি দলই সম্প্রতি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের ক্ষমতা বিস্তারের পথে এগোতে শুরু করেছে। টিএমসি রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেন, “সংগঠন, ঘটনাপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন। যে সব জায়গায় মুখোমুখি বিজেপি ও কংগ্রেসের লড়াই ছিল, সেখানে কংগ্রেস একের পর এক আসন প্লেটে সাজিয়ে বিজেপির হাতে তুলে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না, তবে কংগ্রেস যেখানে মূল বিরোধী দল, সেখানেই বিজেপি শক্তিশালী। বিজেপি এম কে স্টালিন (তামিলনাড়ু), মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (পশ্চিমবঙ্গ) বা ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি (অন্ধ্রপ্রদেশ)-কে হারাতে পারেনি। সেই অর্থে, বিজেপি কংগ্রেসকে জাতীয় দল হিসাবে পেয়ে খুশি। আসল বিষয়টি হল, কংগ্রেস বিজেপিকে হারাতে পারেনি।”

আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেন, “এমনকী মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যেও, যেখানে মানুষ ভোট দিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় এনেছে, সেখানেও তাদের প্রার্থীরা নিজেদের বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। উত্তর প্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মতো বড় রাজ্যে দলটির কোনও চিহ্ন নেই। আর তাছাড়া জাতীয় এবং আঞ্চলিক কি? বছরের পর বছর ধরে, কংগ্রেস সপা, ডিএমকে-র মতো দলগুলির একটি ছোট জোটসঙ্গী ছিল।”



Source link