Calcutta High Court: একই দিনে ৩ বিচারপতি সরে দাঁড়ালেন এসএসসি দুর্নীতির মামলা থেকে, কীভাবে দেখছেন আইনজ্ঞরা?

By | April 4, 2022


কী বলছেন আইনজ্ঞরা?

কলকাতা : কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) এসএসসি দুর্নীতি মামলা নিয়ে সোমবার যে দৃশ্য দেখা গেল, সাম্প্রতিককালে এমন নজির দেখা যায়নি বলেই মন করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। একই দিনে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান হাইকোর্টের তিন বিচারপতি। সোমবার সকালে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বিচারপতি মামলা থেকে সরে দাঁড়ালে সেটি প্রথমে যায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে। তারপর তিনিই ঠিক করে দেন, মামলাটি এর পর কে শুনবেন। সেই মতো প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব তা পাঠিয়ে বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু তিনিও ব্যস্ত থাকার কারণে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর ফের প্রধান বিচারপতি মামলাটি পাঠান বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। উল্লেখ্য, শুক্রবার বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে শান্তিপ্রসাদ সিনহার আইনি রক্ষাকবচ মঞ্জুর করা হয়, সেই সময় বাকি তিনজনকেও বলা হয়েছিল, তাঁরা চাইলে আবেদন করতে পারেন। তবে এদিন অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকার দরুণ চার এসএসসি কর্তার আবেদন করা মামলা থেকে তিনি সরে যান। পরে সব মামলা বিচারপতির জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চকে শোনার জন্য নির্দিষ্ট করে হাই কোর্ট।

এসএসসি মামলা বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টের সবথেকে চর্চিত মামলার মধ্যে একটি। অভিযোগ ভীষণই গুরুতর। রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির অভিযোগ। কিন্তু এমনই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিয়ে খোদ বিচারপতিদের মধ্যেই টানাপোড়েন। এর আগে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানি ছিল। সেই সময় স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। কিন্তু পরবর্তীতে মামলাটি যায় বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চে। সেই সময় বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিবিআই অনুসন্ধানের নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়। এতেই বেজায় বিরক্ত হন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কেন তাঁর দেওয়া রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে? প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিও দ্বারস্থ হন। প্রশ্ন তুলেছেন, কাদের সুবিধা পাওয়ে দিতে সিঙ্গল বেঞ্চের হাত বেঁধে দিচ্ছে ডিভিশন বেঞ্চ? কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই অভিযোগ করেন।

এরপরই দেখা গেল, সোমবার সকালে প্রথমে মামলাটি থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে গেলেন বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন। তারপর আরও দুই বিচারপতিও অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকার কারণে মামলাটি নিতে রাজি হননি। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন আইনজ্ঞরা? আইনজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এটি একটি বৃহত্তর দুর্নীতি। তা প্রকাশ্যে চলে এলে বিচারপতিদের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, “(মামলাটি) শুনতে চাইছেন না এই কারণে, যে প্রত্যেক বিচারপতি আশঙ্কা করছেন যে এটি এত গভীর একটি দুর্নীতি, তা প্রকাশ্যে এসে গেলে হয়ত তাঁদের উপর রাজনৈতিক চাপ বা সামাজিক চাপ আসতে পারে। একটি বৃহত্তর দুর্নীতি, যাতে বিচারপতিদের নিজস্ব চিন্তা চেতনাকেও আঘাত করছে।”

তবে এর বিপরীত মতও রয়েছে আইনজীবী মহলে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিচারপতিরা কোনও মামলা থেকে সরে দাঁড়াতেই পারেন, এতে অন্য কোনও কিছু ভাবার অবকাশ নেই বলেই মনে করছে তাঁরা। আইনজীবী ইক্রামূল বারির মতে,”আমার মনে হয়, ব্যক্তিগত কারণে নাই শুনতে পারেন মামলা। যদি বিচারপতির মনে হয়, তাঁর সঙ্গে কোনওভাবে মামলার যোগ আছে, বা তাঁর পরিচিত কেউ আছেন, হয়ত সেক্ষেত্রে ঠিকমতো বিচার করতে পারবেন না, এমন হলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পিছিয়ে যেতেই পারেন।” তবে এই ধরনের দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় বিচারপতিদের মন্তব্য কোনও সমস্যা তৈরি করতে পারে, এমন ভাবার জায়গা নেই বলেই মত ইক্রামূল বারির। তাঁর কথায়, “বিচারপতিরা আইন দেখবেন, দেখে অর্ডার পাশ করবেন। সেই জন্যই তো দেখেন না দাড়িপাল্লায় চোখটা বেঁধে দেওয়া হয়।”

আরও পড়ুন : ED vs WB Police: ইডি অফিসারদের তলব করা যাবে না, রাজ্য পুলিশের নোটিসে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের



Source link