Abhishek Chatterjee Demise: অসময়ে চলে গেল আক্ষেপ বুকে চেপে, বললেন দুলাল লাহিড়ী

By | March 27, 2022


স্মৃতিচারণে দুলাল লাহিড়ী

অভিনয়ের সবকটি মাধ্যমে এক সঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। একসঙ্গে দুটো মেগা ধারাবহিকে কাজ করছিলেন। একই ঘর ভাগ করতেন। প্রিয় ভাইকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন দাদা দুলাল লাহিড়ী।

মোহর আর খড়কুড়ো-এই দুটো মেগা ধারাবাহিকে কাজ করছিলাম। কিন্তু সকলের অভিষেক আমার মিঠু। প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে চিনি। সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রা, তারপর মেগা ধারাবহিক-অর্থাৎ অভিনয়ের সব কটি মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করেছি। এর বাবা প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়ও খুব ভাল অভিনয় করতেন। বাবার কাছেই হাতেখড়ি অভিনয়ের।

আমার থেকে কত ছোট। এত তাড়াতাড়ি তো চলে যাওয়ার কথা ছিল না। সিনেমা ছাড়ার পর অনেক দিন কাজ করেনি। তারপর ফিরে এল মেগা ধারাবাহিক দিয়ে। সেখানেও অনেক কাজ একসঙ্গে করি। আজ ছোট ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে বলতে হচ্ছে। এটা আমার জন্য কতটা কষ্টকর বলে বোঝা নো যাবে না। বড়রা কেউ তেমন নেই, ছোট ভাইও চলে গেল। কিন্ত এই বিষয়ে একটা কথা বলতেই হবে। নিজের উপর অত্যাচার করে চলে গেল মিঠু।

কত কথা মনে পড়ছে। স্বপন সাহা, অঞ্জন চোধুরী-সকলের ছবিতে আমরা কাজ করেছি। কত ছবিতে আমি খলচরিত্র করেছি, আর ও নায়ক হত, ফলে মার খেয়েছি। কত স্মৃতি। যাত্রা করতে গিয়ে দেখেছি, কত মহিলা ভক্ত ওর।

মোহর মেগা ধারাবাহিকের তরফ থেকে পিকনিক গিয়েছিলাম গত বছর। ও খুব ভাল গান গাইত। কত গান গাইল। আমাকেও গাইতে বলল। খুব মজার ছেলে ছিল মিঠু। ভাল মানুষ বলতে যা বোঝায় একদম তাই। কোনও দিন কারও সমালোচনা করত না। উল্টে বলত, কী হবে এই অন্যের সমালোচনা করে।

খেতে ভালবাসত। আমরা এক ঘরে থাকতাম। একদিন এসে বলল, দাদা একটা বড় ইলিশ পেলাম, কিনে নিলাম। বললাম খাবি কতদিন ধরে। কেন, ফ্রিজে রেখে খাব।

ইন্ডাস্ট্রি থেকে যতটা পাওয়ার ছিল পায়নি। আক্ষেপ ছিল। নেশার মধ্যে সেই দুঃখ ভুলে থাকতে চেত। কতবার বারণ করেছি, কিন্তু শুনত না। নিজের উপর অত্যাচার করে, অভিমান নিয়ে চলে গেল সবার মিঠু। বড়দের সম্মান, ছোটদের ভালবাসত।

একটা আক্ষেপ রয়ে যাবে সারাজীবন। লাস্ট যেদিন ফ্লোরে আসে, ওকে আমি ডাকতে গিয়ে দেখি শুয়ে আছে। আমি বললাম, এভাবে সারাদিন শুয়ে থাকিস না। বলল, উঠতে পারব না দাদা। বললাম, আমি ধরছি। উঠে বস। কিন্তু পারল না। আমি ওর বউকে ফোন করে ডেকে আনি। চেনা হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি। কিন্তু ও বা ওর বউ ওকে বাড়িতে নিয়ে গেল। যদি যেত হয়তো…এই হয়তোটাই থেকে যাবে। যাইহোক, রাতে বউয়ের সঙ্গে কথা হল. ঘুমাচ্ছে জানাল। বললাম, পরের দিন সেটে না আসতে। কিন্তু পরের দিন একটা রিয়্যালিটি শো-এর শুটিং চলে গেল। নিজেই ফোন ধরল। বলল, কথা দেওয়া ছিল, করতে তো হবে। কাজের প্রতি এমন ডেডিকেশন ছিল, যদি জীবনের প্রতিও সেটা দেখাত….



Source link