সুপারি পরিবহনে অসম সরকারের বিধিনিষেধ, প্রতিবাদে জম্পুই হিলে অনির্দিষ্টকালের বনধ চাষীদের

By | November 28, 2022


আগরতলা, ২৮ নভেম্বর (হি. স.) : সুপারি বিক্রিতে অসম সরকারের বিধিনিষেধের প্রতিবাদে ত্রিপুরায় জম্পুই হিল এলাকায় অনির্দিষ্টকালের বনধ পালন করছেন চাষীরা। তাতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসক আগামীকাল সুপারি চাষীদের সাথে আলোচনার আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু, সমস্যার সমাধান হওয়া পর্যন্ত কোন আলোচনায় তাঁরা আগ্রহী নন বলে চাষীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত জম্পুই হিলে এই অচলাবস্থা কিভাবে দূর হবে সেই পথ খুঁজে বের করতে প্রশাসন গভীর চিন্তায় পড়েছে।

প্রসঙ্গত, জম্পুই হিল থেকে অসম এবং মিজোরামে প্রচুর পরিমাণে সুপারি রপ্তানি করা হতো। ওই অঞ্চলের প্রায় ৭০০০ পরিবার সুপারি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু, সম্প্রতি অসম সরকার ত্রিপুরা থেকে সুপারি আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে, জম্পুই হিল অঞ্চলের সুপারি চাষীরা মহা বিপাকে পড়েছেন। বিষয়টি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর গোচরে নেওয়া হয়েছিল। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু, এখন পর্যন্ত কোন সমাধান সুত্র বের হয়নি। তাতে, সুপারি চাষীরা ভীষণ অসন্তুষ্ট হয়ে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জম্পুই হিল বনধের ডাক দিয়েছেন।

এ-বিষয়ে জনৈক সুপারি চাষী জে ডি মবী বলেন, ত্রিপুরা সরকার জম্পুই হিলে উত্পাদিত সুপারির উত্পাদন স্থানের শংসাপত্র প্রদান করছে। অথচ, অসম সরকার তাতেও ত্রিপুরার সুপারির অসমে প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে, আমরা আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাঁর কথায়, অসম সরকার কেন্দ্রের দোহাই দিয়ে সুপারি আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। অসম সরকার বলছে, ত্রিপুরা থেকে সুপারি অসমে প্রবেশে কেন্দ্রীয় সরকার নিষেধ করেছে এবং কেন্দ্রের আদেশ মেনেই ওই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এদিন তিনি জানান, জম্পুই হিল বিডিও-র মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। তাতে, সুনির্দিষ্ট চারটি দাবি রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, অসম সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সুপারি পরিবহণ ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সুপারির জন্য নির্দিষ্ট বাজার তৈরিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, কেন্দ্রীয় সরকার সুপারির জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ এবং সুপারি চাষীরা আর্থিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হোক।

সুপারি চাষীরা অসম সরকার এবং অসম পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, বলেন তিনি। তাঁর মতে, অসম সরকারের ওই সিদ্ধান্তে জম্পুই হিলের সুপারি চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই, অবিলম্বে সমস্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে সুপারি চাষীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা হোক। নইলে জম্পুই হিল বনধ জারি থাকবে, হুশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, উত্তর ত্রিপুরা জেলাশাসক আলোচনার জন্য আমাদের আগামীকাল ডেকেছেন। কিন্তু, আমরা ওই আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ, সমস্যার সমাধান ছাড়া শুধু আলোচনা বৃথা।

জম্পুই হিল বিডিও নবারুন চক্রবর্তী বলেন, আজ সুপারি চাষীদের এক প্রতিনিধি দল ডেপুটেশন প্রদান করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন দাবি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রেখেছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের দাবি জেলা শাসকের কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছে।তবে, সহসা ওই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাতে, সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। আজ বনধের জেরে যাতায়াত পুরো স্তব্ধ ছিল জম্পুই হিলে। পর্যটকদের এদিন বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে বনধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকরা সেখানেই আটকে থাকবেন। কারণ, বিকল্প রাস্তা দিয়েও যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না বলে খবর মিলেছে।



Source link