‘সরকার আপনাদের শত্রু নয়’, SSC চাকরিপ্রার্থীদের অবস্থান মঞ্চে গিয়ে আশ্বাস কুণালের

By | April 30, 2022


স্টাফ রিপোর্টার: আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের অনুরোধে তাঁদের কথা শুনে এলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বিষয়টি তিনি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবেন বলে এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বাসও দেন। একইসঙ্গে তাঁদের জানান, সরকার চাইছে সমস্যার সমাধান হোক। কোথাও কোনও জটিলতা থাকলে তার সমাধান করা হবে। কিন্তু তা নিয়ে রাজনীতি হলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রাখুন। নিশ্চয়ই সমস্যার সমাধান হবে।

শনিবার বিকেলে প্রেস ক্লাবে পূর্বনির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন কুণাল। তিনি যখন ভিতরে ছিলেন তখন ক্লাবের উলটোদিকে রেফারিজ ক্যান্টিনে খেতে এসেছিলেন কয়েকজন আন্দোলনকারী। তাঁরা দেখেন যে কুণাল ঘোষ প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠানে রয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময় কুণাল দেখেন, কয়েকজন যুবক-যুবতী ক্লাবের গেটের উলটোদিকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কুণাল বের হতেই তাঁরা কুণালের কাছে চলে আসেন। বলেন, তাঁরা এসএসসি (SSC) চাকরিপ্রার্থী। শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা বিভাগের। তাঁরা কিছু কথা তাঁকে বলতে চান। প্রেস ক্লাবের (Press Club) গেট দাঁড়িয়েই তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয় কুণালের।

[আরও পড়ুন: ‘এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছেন প্রশান্ত কিশোর’, দিল্লিতে বড় ঘোষণা মমতার]

চাকরিপ্রার্থীরা তাঁদের দাবি লেখা একটি চিঠি কুণালের হাতে তুলে দিয়ে জানান, শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা বিভাগের চাকরিপ্রার্থীরা অবস্থান চালাচ্ছেন। প্রবল কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। রাজ্য সরকার বিষয়টি যদি একটু বিবেচনা করে। কুণাল তাঁদের বলেন, এই বিষয়টি তাঁর এক্তিয়ারে নয়। তবে তাঁরা যে চিঠি দিয়েছেন, তা কর্তৃপক্ষকে তিনি জানিয়ে দেবেন। তখন তাঁরা অনুরোধ করেন, কষ্টের মধ্যে তাঁরা অবস্থানে বসে রয়েছেন। কুণাল যদি তাঁদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে একবার যান। এরপর কুণাল তাঁদের সঙ্গে অবস্থান চত্বরে যান। যখন তিনি তাঁদের সঙ্গে বসে কথা বলছেন, তখন কয়েকজন সেখানে ইফতার করছিলেন। তাঁদের অনুরোধে ইফতারে অংশ নেন তিনি। কুণাল তাঁদের বলেন, “সরকারকে শত্রু ভাবছেন কেন? সরকার আপনাদের শত্রু নয়।” চাকরিপ্রার্থীরাও বলেন, যে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (Mamata Banerjee) তাঁদের অভিভাবক মনে করেন। সরকার শত্রু নয়, কিন্তু কোনও একটি জটে আমাদের চাকরি আটকে গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন কুণাল। তাঁদের বুঝিয়ে বলেন, “এটা একটা বিরাট সিস্টেম। কোথাও একটা দশমিক দুই পার্সেন্টও যদি গণ্ডোগোল হয়ে থাকে, তাতে যদি মামলা–মোকদ্দমা হয়, তাহলে বাকি পুরো সিস্টেমটাইতো আটকে যায়।” কুণালের কথায় সহমত পোষণ করেন চাকরিপ্রার্থীরাও। কুণালকে তাঁরা জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁরা দেখা করেছিলেন। তাঁরা খুশি। বিরোধী রাজনীতি তাঁরা করতে চান না। আমরা যন্ত্রণায় আছি, কারণ কোনও কমিউনিকেশন গ্যাপ থেকে জটিলতায় পড়ে গিয়েছি।” কুণালকে হাতে তুলে ফল খাইয়ে দেন তাঁরা। কুণাল বলেন, “আস্থা রাখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। সরকার কিন্তু আপনাদের বিরুদ্ধে নয়। সরকার চাইছে সমাধান করতে। কোথাও যদি কোনও জটিলতা থাকে, তাহলে সেটা কাটাতে হবে। সেই জটিলতা বাড়াতে যদি কেউ রাজনীতি করতে যায়, তাহলে তো জটই বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রীও চান সমাধান।”

[আরও পড়ুন: চিঠির জবাব চিঠিতে, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি বাঁচাতে পালটা আসরে প্রাক্তন আমলা ও বিচারপতিরা]

কুণাল জানান, “আমন্ত্রণ রক্ষা করে তিনি এসেছেন। কিন্তু এর সমাধানের এক্তিয়ার আমার হাতে নেই। তবে তাঁরা আস্থা রাখতে পারেন, যথাযথ জায়গায় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।” তবে একথাও তাঁদের মনে করিয়ে দেন যে, “এটাও বুঝতে হবে যে, সরকার ইচ্ছা করলেই নিয়মনীতি বা মামলা কি অবস্থায় আছে, তা না জেনে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। তবে মমতাদির উপর ভরসা রাখুন। আস্থা রাখুন। আমি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাব।” তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এমন আলাপচারিতায় নিজেদের কষ্টের কথা বলে কেঁদে ফেলেন এক সংখ্যালঘু। কুণালকে জানান, ইদের দিন তাঁর স্ত্রী সন্তান প্রসব করবেন। কিন্তু তিনি খালি হাতে কি করে বাড়ি যাবেন, সেই অসহায়তার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই তাঁদের কষ্টের কথা বলেন কুণালকে। তাঁরা খুশি যে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বসে তাঁদের বাড়ির কথা শুনেছেন, গল্প করেছেন। সেখান থেকে আসার সময় কুণাল তাঁদের বলেন, “সরকারের বিরোধিতা নয়, সরকার শত্রকু নয়। আস্থা রাখুন।”

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে





Source link