বিলাসবহুল হোটেলকেও হার মানাবে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি, নীল কাচে মোড়া বাড়ির দাম জানেন?

By | April 2, 2022


সৌমিক হোসেনের বাড়ি

(গ্রাফিক্স: অভিজিৎ বিশ্বাস)

মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের খাগড়াগড় স্টেশন। তার পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে মূল রাস্তা। ঠিক এর উপরেই নীল-সাদা রঙের একটি মস্ত বাড়ি রয়েছে। জানলাগুলি নীল কাচ দিয়ে ঢাকা। দৃষ্টি আপনার আকর্ষণ করবেই। তবে জানেন এই বাড়ির মালিকের নাম? সৌমিক হোসেন। বর্তমানে মুর্শিদাবাদের রানিনগরের তৃণমূল বিধায়ক তিনি। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই বসত বাড়ি তুমুল চর্চায় রয়েছে। শুধু খাগড়াগড়ই নয়, ডোমকলেও তাঁর ঠিক এমনই আরও একটি বাড়ি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বাড়ির বৈশিষ্ট্য কী?

বিলাসবহুল তিন তলা বাড়ি। দেখলে মনে হবে যেন পাঁচতারা একটি হোটেল। বাড়িটি নীল কাচ দিয়ে ঘেরা।সূত্রের খবর, তিন কাঠা জায়গার উপর তৈরি হয়েছে এটি। এই বাড়িটিতে রয়েছে একাধিক এসি। জানা গিয়েছে প্রায় কোটি টাকা খরচ হয়েছে বাড়ি তৈরিতে। শুধু এই বাড়ি নয়, বিধায়কের আরও যে একটি বাড়ি রয়েছে সেটিও প্রাসাদপ্রম।

Abdul Soumik Hossain

সৌমিক হোসেনের বাড়ি নং ২(নিজস্ব ছবি)

সৌমিক হোসেনের পরিচয়

এক সময় কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন মান্নান হোসেন। তাঁর দুই পুত্র। সৌমিক হোসেন এবং রাজীব হোসেন। প্রথম জীবনে দুই ভাই বাবার সঙ্গে কংগ্রেস করতেন। এরপর দল বদল করে ২০১৪ সালে তাঁরা তৃণমূলে যোগদান করেন।

সালটা ২০১৬। মুর্শিদাবাদ যুব তৃণমূল সভাপতির পদ পান সৌমিকবাবু।

এরপর ২০১৭ সালে ডোমকলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। তবে পরে অর্থাৎ ২০১৯-২০ সালে অনাস্থা ডাকা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এবং চেয়াম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।

সৌমিকবাবুর ভাই রাজীব হোসেন বর্তমানে তৃণমূল জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ।

প্রাসাদপ্রম এই বাড়ি নিয়ে সৌমিক হোসেনের বক্তব্য কী?

বিধায়ক সাফ-সাফ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “বাড়ি থাকা কি নিষেধ আছে কোথাও? থাকতেই পারে বাড়ি। ২০০০ সাল থেকে বাড়িটি রয়েছে। আমি এখানেই থাকি। আমরা কি ভিখারি নাকি? আমাদের যে বাড়ি রয়েছে সবগুলিই ২০০০ সালের বাড়ি। এই নয় যে কালকে হয়েছে। যারা এই সব করছে তারা পাগল হয়ে গিয়েছে । এরা মুর্শিদাবাদের মানুষ নয়। আর পাগলা কুকুর কী বলল না বলল তাদের বলতে দিন। সবটাই জেলার মানুষ জানে।”

জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস কী জানালেন?

রাজনৈতিক অবক্ষয় হয়েছে বাংলায়।আগে যাঁরা রাজনীতি করতেন তাঁদের পোশাক, সততা, বাড়ি ঘর দেখে মানুষ রাজনীতিতে আসতেন। বর্তমানে রাজনীতিতে তাঁরাই আকর্ষণীয় যাঁদের দশটি আঙুলে দশটি আঙটি। গলায় কুকুর বাঁধা চেনের মতো মোটা চেন রয়েছে। চার-পাঁচটি বাড়ি আর বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে।আগে বড় বাড়ি মানে মানুষ বুঝত জমিদারের বাড়ি। আর এখন পাড়ায়-পাড়ায় বড় বাড়ি দেখলেই সাধারণ মানুষ বুঝে নেবে ওটা তৃণমূল নেতার বাড়ি।

এলাকাবাসী কী বলেছন?

ভাদু শেখ থেকে আনারুল তৃণমূল নেতাদের একটাই কাজ এখন হয় তোলাবাজি করে। নয়ত চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তোলাবাজি করে। এটাই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। একজন এমএলএ হিসেবে ওনার বেতন কত? উনি আগে কী করতেন? উনি কাউন্সিলর ছিলেন না, পঞ্চায়েত প্রধানও ছিলেন না।”

তবে সৌমিক হোসেনের পাল্টা দাবি তাদের যে খাগড়া স্টেশন রোডে বাড়ি রয়েছে সেই বাড়িটি তাঁর পিতা মান্নান হোসেন তৈরি করে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Modasser Hossain: ‘কাটা তেলের’ ব্যবসায়ী থেকে পঞ্চায়েত প্রধান, তৃণমূল নেতার ‘লাভ হাউসের’ খরচ জানেন?



Source link