প্রবীণ নাগরিক ও সমাজে পিছিয়েপড়া অংশের মানুষের কল্যাণে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি যথাযথভাবে রূপায়ণ করা হচ্ছে : মুখ্যমন্ত্রী

By | November 25, 2022


নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ নভেম্বর৷৷ মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা:) মানিক সাহা আজ আগরতলার হোটেল পোলো টাওয়ারে ভারত সরকারের সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত দু’দিনের আঞ্চলিক কর্মশালার উদ্বোধন করেন৷ সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন দপ্তরের আইন, নিয়মাবলী ও প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে৷ রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই আঞ্চলিক কর্মশালায় ত্রিপুরা সহ লাদাখ, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমালচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যাণ্ড, মিজোরাম, মণিপুর রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন৷ 

কর্মশালার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা:) মানিক সাহা বলেন, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন দপ্তরের আইন, নিয়মাবলী সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর দু’দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন রাজ্যের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ৷ রাজ্য সরকারও রাজ্যের তপশিলি জাতি, অন্যান্য পশ্চাদপদ জাতি ও প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে রূপায়ণ করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী তথ্য সহ বলেন, রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে ’ইমপ্লিমেন্টেশন অব মেন্টেনেন্স এণ্ড ওয়েলফেয়ার অব পেরেন্ট এণ্ড সিনিয়র সিটিজেন অ্যাক্ট’-২০০৭ রাজ্যে ২০০৮ সাল থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে৷ রাজ্যের ৮টি জেলা ও ২৩টি মহকুমায় এই আইন কার্যকর রয়েছে৷ অবহেলিত বয়স্ক নাগরিকদের আশ্রয়ের জন্য রাজ্যে ৪টি বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে৷ সেগুলো হল মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়্যাল ব’দ্ধাশ্রম যা সরকার পরিচালিত এবং এন জি ও পরিচালিত আপনাঘর ওল্ড এইজ হোম, অভয়াশ্রম ওল্ড এইজ হোম এবং প্রান্তিক ওল্ড এইজ হোম৷
কর্মশালায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ’ইন্টেগ্রেটেড প্রোগ্রাম ফর সিনিয়র সিটিজেন প্রকল্পের সোসাইটিস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট-১৮৬০’র অধীনে নথিবদ্ধ রাজ্যের বিভিন্ন এজেন্সি ও এন জি ও-দের সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক থেকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে৷ রাজ্যের ৩টি এন জি ও পরিচালিত বৃদ্ধাশ্রমও এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে৷ তৃতীয় লিঙ্গ ব্যক্তিদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার ’দ্যা ট্রান্সজেণ্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অব রাইটস অ্যাক্ট) ২০১৯ এণ্ড দ্যা ট্রান্সজেণ্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অব রাইটস) রুলস, ২০২০’ প্রণয়ন করেছে৷ রাজ্যেও এই আইনের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ, পরিচয় স্বীকৃতি, বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণ এবং তৃতীয় লিঙ্গদের জন্য ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার মাদক ব্যবহার রোধে শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে৷ নেশার হাত থেকে যুব সম্পদায়কে রক্ষার জন্য ত’ণমূল স্তর পর্যন্ত সচেতনতামুলক প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে৷ এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দপ্তর, ক্রীড়া দপ্তর সহ অন্যান্য দপ্তরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে৷
কর্মশালায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের তপশিলি জাতিভুক্ত জনগণের আর্থিক ও সামাজিক মানোন্নয়নে রাজ্য সরকারের তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী তথ্য সহ বলেন, রাজ্যের তপশিলি জাতিভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের ৩৬টি হোস্টেলের সংস্কার বাবদ ৪১২.১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে৷ ড্রপ আউট হাস করতে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভক্তি নিশ্চিত করতে ৩২ হাজার ৩২৯ জন শিক্ষার্থীকে প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপ হিসেবে ১৭০.০৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, মৎস্য চাষ, উদ্যান পালন, কৃষি ও প্রাণী পালন ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রোজগারের লক্ষ্যে ৫৭ হাজার ৩১৯ জন সুুবিধাভোগীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে৷ তপশিলি জাতি অধ্যষিত গ্রামগুলিতে সোলার লাইট বসানো, কমিউনিটি হল নির্মাণ, রাস্তা, পানীয়জল সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৩৯৬.০২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে৷ ২ হাজার ৯০৪ জন তপশিলি জাতিভুক্ত বেকারকে স্কীল ডেভেলপমেন্টের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ এরজন্য ৬৪৬.৯৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আদর্শ গ্রাম যোজনায় নির্বাচিত ৩০টি গ্রামে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, পানীয়জল ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে ১৩৮৭.৪৩ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকার ব্যয় করেছে৷৬৭ হাজার ২৫৭ জন ছাত্রছাত্রীকে ১৩৩৫৫.৮৭ লক্ষ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে৷ বাবু জগজীবন রাম ছাত্রাবাস যোজনায় রাজ্যে ৫টি ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন প্রদান করেছে৷ এছাড়াও ক্ষুদ্র ব্যবসা, মৎস্য, পরিবহণ ক্ষেত্রে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য ৪ হাজার ১৬১ জনকে ভর্তুকীতে ঋণ প্রদান করা হয়েছে৷
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক বলেন, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের যে সমস্ত প্রকল্প রয়েছে তার সুুফল সমাজের অন্তিম ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দিতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে৷ অনগ্রসর জাতি ও অন্যান্য পশ্চাদপদ জাতির শিক্ষা ও আর্থিক মানোন্নয়নে কেন্দ্রীয় ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলোকে আরও কিভাবে কার্যকর করা যেতে পারে তা এই কর্মশালায় আলোচনা করা হবে৷ যে রাজ্যগুলি অনগ্রসর জাতি ও অন্যান্য পশ্চাদপদ জাতির কল্যাণে ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলো রূপায়ণে ভালো কাজ করছে তা তারা এই কর্মশালায় তুলে ধরবে৷ ফলে ত্রিপুরা রাজ্যও এ বিষয়ে উপকৃত হতে পারবে৷ তিনি বলেন, অনগ্রসর জাতি ছাত্রছাত্রীদের স্টাইপেণ্ড যথা সময়ে পৌঁছানোর উপর সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে৷ এক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যগুলোকেও এই কাজটি সময়ের মধ্যে কার্যকর করার উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে৷ পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের জীবন কিভাবে আরও সুুগম্য ও সহজ করা যায় সে বিষয়েও কর্মশালায় আলোচনা করা হবে৷ এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশের মাধ্যমে অনগ্রসর জাতি ও অন্যান্য পশ্চাদপদ জাতিভুক্ত জনগণকে রোজগারের সুুযোগ স’ষ্টি ব’দ্ধির লক্ষ্যে কি কি পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়েও কর্মশালায় আলোচনা করা হবে৷
অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের সচিব অঞ্জলি ভাবরা৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ভগবান দাস, অন্যান্য পশ্চাদপদ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, বিহারের তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সন্তোষ কুমার সুুমন এবং রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব জে কে সিনহা৷



Source link