দুর্গাপুরে বিএমএসের অফিসে বোমাবাজি, আগুনে পুড়ল কার্যকর্তার নথী

By | November 27, 2022


দুর্গাপুর, ২৭ নভেম্বর (হি. স.) : বিএমএসের কার রাজ্য সম্মেলনের প্রস্তুতি বৈঠক শেষ হতেই ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ কার্যালয়ে দুস্কৃতি হামল। চলল বোমাবাজি। শনিবার রাতে ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর শিল্পশহরে। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও অগুন লেগে যায় এবিভিপির কার্যকর্তার রুমে। আগুনে পুড়ে যায় বিছানা থেকে সংগঠনের কিছু নথী। অভিযোগের আঙ্গুল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দিকে। ঘটনার তদন্তে শুরু করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর ২৯ নম্বর বিদ্যাসাগরে ডিএসপির কোয়াটারে রয়েছে সঙ্ঘ পরিবারের শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের (বিএমএস) কার্যালয়। তার পাশে রয়েছে বিজেপির দলীয় কার্যালয়। আগামী ১৬,১৭,১৮ ডিসেম্বর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপুরে। আর তারই তোড়জোড় শুরু হয়েছে সঙ্ঘ পরিবারের ওই ছাত্র সংগঠনের। ওই সম্মেলনে প্রায় ৬০০ কর্মী ও কার্যকর্তা সামিল হবেন। দুর্গাপুর শিল্পশহরের বুকে গেরুয়া শিবিরের সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যা শাসকদলের কাছে মাথা ব্যাথার কারন হয়েছে বলে অভিযোগ। সম্মেলনের কারনে এবিভিপির যাবতীয় বৈঠক কর্মসূচী করছে বিএমএসের কার্যালয়ে।

শনিবার রাতে সেরকমই এক প্রস্তুতি বৈঠক চলছিল। বৈঠকে শেষে কার্যকর্তারা একটি ঘরে সমবেত ভাবে খাবার খাচ্ছিল। ওইসময় আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে তাদের রুম। শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে আসে কর্মীরা। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দুর্গাপুর সংগঠন সম্পাদক অনির্বান ভান্ডারী জানান,” বাইরে বেরিয়ে আসার পর দেখি আমার রুমে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিভিয়ে ফেলা হলেও গোটা ঘর তখন লন্ডভন্ড হয়ে যায়। বিছানা আসবাব ও কিছু নথী পুড়ে যায়। তারপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বিএমএস কর্যকর্তাদের খবর দেওয়া হয়।” প্রশ্ন, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা কেন হামলা চালাল? উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর রাজ্যজুড়ে এবিভিপি প্রভাব বিস্তার করছে। সংগঠনে সদস্য যেমন বাড়ছে তেমনই জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সামনের বছর রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের শাসকদল শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতিতে বিদ্ধ। এসএসসি টেট কেলেঙ্কারীতে সিবিআই তদন্তে পাহাড় প্রমান দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসায় রাজ্যের ছাত্র যুব সমাজ মুখ ফিরিয়েছে তৃণমল থেকে। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠনের অভুতপুর্ব উত্থান শুরু হয়েছে।

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দুর্গাপুর সংগঠন সম্পাদক অনির্বান ভান্ডারী বলেন,” সামনের মাসে আমাদের রাজ্য সম্মেলন হচ্ছে দুর্গাপুরে। আমাদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়াতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ভয় পেয়েছে।সম্মেলনকে বানচাল করতেই শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের এমন কাজ। আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।” খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই। ছুটে আসেন বিএমএসের জেলা নেতৃত্ব। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয় গেরুয়া শিবির। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা। প্রাথমিক অনুমান পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়েছে। যদিও পরদিন রবিবার ফরেনসিক প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থলের নমুনা সংগ্রহ করে। পুলিশ ওই রুমটি সিল করে দেয়। যদিও ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে পাল্টা দাবি করে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি,” নিজেদের ঘরোয়া বিবাদকে তৃণমূলের ঘাড়ে চাপিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বিজেপি তথা গোটা গেরুয়া শিবির।” পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।



Source link