টাকা চেয়েও মিলছিল না, পরে চেক দিলে তাও বাউন্স, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় দ্বারস্থ চিকিৎসক

By | June 1, 2022


বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা

(নিজস্ব ছবি)

Jalpaiguri: জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সহ সভাপতি বর্তমানে বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা ও কর্মীদের মুখপাত্র অলোক চক্রবর্তী।

জলপাইগুড়ি: সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বিজেপি নেতার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ভিডিয়ো। যার জেরে রীতিমত হইচই পড়ে গিয়েছে জলপাইগুড়িতে। যদিও, নেতার অভিযোগ তাঁকে বদনাম করতেই এই চক্রান্ত করা হয়েছে। আর এর মূলে রয়েছেন খোদ জেলা সভাপতি।

জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সহ সভাপতি বর্তমানে বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা ও কর্মীদের মুখপাত্র অলোক চক্রবর্তী। অভিযোগ, জলপাইগুড়ি শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার পরেশনাথ সাহার কাছ থেকে ব্যবসা করার জন্য বেশ কয়েক বছর আগে ৫ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। অভিযোগ সেই টাকা তিনি ফেরত দিচ্ছিলেন না। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকবার টাকা চাওয়ার পর শেষমেশ তিনি ওই চিকিৎসককে একটি পাঁচ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। যেই চেকটি জমা দেওয়ার পর বাউন্স হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে তিনি উকিলের দারস্থ হলে উকিলবাবু আদলতের দারস্থ হবার উপদেশ দিলে চিকিৎসক আদালত যান। বিষয়টি বর্তমানে আদলতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এরপর অর্থাৎ মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। যাতে দেখা যাচ্ছে ডাক্তারবাবু এই টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় অভিযোগ করছেন। এই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই হইচই পড়ে গিয়েছে জলপাইগুড়িতে।

যদিও, বিষয়টি নিয়ে অলোক চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘ওই পরিবারের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। আমি পর্যটন ব্যবসার জন্য ৩ লক্ষ টাকা চিকিৎসকের কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম। কথা ছিল ব্যবসা করে আমি ৫ লক্ষ টাকা শোধ করবো। কিন্তু ব্যবসায় মন্দা, বোনের বিয়ে, কোভিড ইত্যাদি ধারাবাহিক ভাবে আসায় আমি টাকা শোধ দিতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে ডাক্তারবাবু আদালতের দারস্থ হন। আমি এই টাকা অবশ্যই তাঁকে শোধ করে দেব। তা নিয়ে আমার সঙ্গে ডাক্তারবাবুর কথা হয়েছে। কিন্তু এখন আমি যেহেতু জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামীর একনায়কতন্ত্রর বিরোধিতা করেছি। আর যাঁরা আমার মতো বিরোধী, তাঁরা আমাকে তাঁদের মুখপাত্র বানিয়েছেন। আমরা যখন কলকাতায় গিয়ে বাপী গোস্বামীর যাবতীয় অনিয়ম রাজ্য নেতাদের জানাবো তখন এই খবর জানতে পেরে এরা আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে ডাক্তারবাবুকে দিয়ে একপ্রকার জোর করিয়ে এই ভিডিয়ো করে আমার বদনাম করার জন্য বাজারে ছেড়েছে।’ এরপর সাফ জানান, ‘আমি দমবার পাত্র নই। বাপী গোস্বামী নিজে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন বছরে ৩ কোটি টাকার বেশি চা পাতার ব্যবসা করেছেন। গত দু’বছর করোনা ছিল। অনেক চা বাগানের মালিক তার কর্মীদের মাইনে দিতে না পেরে বাগান বন্ধ করেছিল। সেইসময় বাপী গোস্বামী কোন যাদুর বলে এত টাকা টার্নওভার করলেন তার তদন্ত হওয়া উচিৎ।’

পরেশ নাথ সাহা বলেন, ‘ব্যবসার জন্য অলোক চক্রবর্তী আমার স্ত্রীর কাছ থেকে ব্যবসার জন্য টাকা চান। আমি সেই মতো পাঁচ লক্ষ টাকা দিই। এরপর চেকটি আমি ব্যাঙ্কে নিয়ে যাই। চেক বাউন্স হয়ে চলে আসে। তখন আমি জলপাইগুড়ির একজন উকিলের কাছে যাই। উনি পরামর্শ দেন এফআইআর করার জন্য। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।’ এই বিষয়ে ব্যাপী গোস্বামীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

এই খবরটিও পড়ুন





Source link