এআইইউডিএফ দলের সভাপতি বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলো করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস

By | December 5, 2022


করিমগঞ্জ (অসম), ৫ ডিসেম্বর (হি.স.) : বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আরও একটি মামলায় জড়ালেন এআইইউডিএফ দলের সভাপতি মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল । আজ সোমবার করিমগঞ্জের সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন করিমগঞ্জের জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি রজত চক্রবর্তী ।

অসমের ধুবড়ির সাংসদ এআইইউডিএফ দলের সভাপতি মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল গত শুক্রবার করিমগঞ্জ সফরে এসে হিন্দু যুবক যুবতী সহ অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে চাপের মুখে পড়ে শনিবার ক্ষমা চেয়েছেন ঠিকই । বলেছেন, আমার এই ধরনের কথা বলা উচিত হয়নি। এর জন্য কোনও সম্প্রদায়ের লোক যদি আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা চাইছি আমি। মন্তব্যও প্রত্যাহার করে বলেন, মিডিয়াকে অনুরোধ, সেটাকে যেন ডিলিট করে দেওয়া হয় ।বিতর্কিত মন্তব্য করে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে । স্থানে স্থানে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ কুশপুত্তলিকা দাহ করা হচ্ছে । রাজ্যের একাধিক থানার তার এই মন্তব্য করার কারনে এজাহার দায়ের করা হয়েছে । শাসক দল বিজেপি সহ কংগ্রেস, আম আদমি দলের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এজাহার দায়ের করা হয়েছে ।
এর মধ্যে আজ সোমবার করিমগঞ্জের সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন করিমগঞ্জের জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি রজত চক্রবর্তী । আজ জেলা কংগ্রেস সভাপতি রজত চক্রবর্তী, প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি তাপস পূরকায়স্থ সহ এক প্রতিনিধি দল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ভবেশ দিহিঙ্গিয়ার হাতে এজাহার দাখিল করেন । তাদের বক্তব্য, অবিলম্বে বদরুদ্দীন আজমলকে গ্রেফতাপ্তার করতে হবে কারণ ওই ব্যক্তির জন্য বরাক উপত্যকা তথা অসমে এমনকি গোটা দেশেও সাম্প্রতিক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে । তাই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দাবি জানায় প্রতিনিধি দল ।
গত শুক্রবার তিনি করিমগঞ্জে এক সাংবাদিক সম্মলেন ডেকে তিনি মন্তব্য করেন যে, মুসলিম ছেলেদের ২২ বছর এবং মেয়েদের ১৮ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলেই অধিক সন্তানের জন্ম হয়। হিন্দুরা ৪০ বছর অবধি বিয়ে করে না। ৪০ বছরের আগে তিন-চারটি করে অবৈধ স্ত্রী রাখে তারা। বিয়ে করতে দেয় না, বাচ্চাও জন্ম দেয় না। শুধু মজা লুটতে থাকে। কিন্তু ৪০ বছর পর কোথাও ফেঁসে গেলে বা বাবা-মা বাধ্য করলে বিয়ে করে হিন্দুরা। কিন্তু ৪০ বছর পর বাচ্চা জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা থাকে কোথায় ?
এরপর থেকে সাংসদ আজমলের মন্তব্য নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে অসমের রাজনীতি । কংগ্রেস, বিজেপি, তৃণমূল সব দলের পক্ষ থেকেই তাঁর মন্তব্যের জন্য নিন্দা জানানো হয়েছে। এমনকি আজমলের সাংসদ পদ কেড়ে নেওয়ার দাবিও উত্থাপিত হয়েছে ।



Source link