ইডেন ছাড়তেই গোয়েঙ্কার অস্বস্তি বাড়াল রিমুভ এটিকে স্লোগান

By | May 26, 2022


ইডেন ছাড়তেই গোয়েঙ্কার অস্বস্তি বাড়াল রিমুভ এটিকে স্লোগান

Image Credit source: Twitter

মাস্ক পরা অবস্থায় ইডেন থেকে বেরোন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। শুরুতে অনেকেই তাঁকে চিনতে পারেননি। তবে ক্যামেরা তাঁর পিছু ছুটতেই ইডেন জনতা তাঁকে চিনে ফেলে। ভিড়ের মধ্যে থেকেই আওয়াজ উঠল ‘রিমুভ এটিকে’।

কৌস্তভ গঙ্গোপাধ্যায়

আইপিএলে (IPL) লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) প্রত্যেক ম্যাচেই দেখা গিয়েছে তাঁকে। লোকেশ রাহুলরা যেখানে খেলেছেন, সেখানেই হাজির হয়েছেন। ইডেন তাঁর ঘরের মাঠ। তিনি লখনউয়ের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা (Sanjiv Goenka)। যিনি আবার এটিকে মোহনবাগানের অন্যতম ডিরেক্টরও। মোহনবাগানের সঙ্গে এটিকের সংযুক্তিকরণের পরই একদল সবুজ-মেরুন জনতা সেটাকে মেনে নিতে পারেননি‌। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মোহনবাগান তাঁবু কিংবা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সর্বত্র আওয়াজ তুলেছে মোহন জনতা। রিমুভ এটিকে ব্যানারও দেখা গিয়েছে যুবভারতীর গ্যালারিতে‌। আইপিএলের এলিমিনেটরের ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। আইপিএল থেকে দল ছিটকে যাওয়ায় স্বভাবতই হতাশ। তবে অস্বস্তি আরও বাড়ল ইডেন ছাড়ার সময়।

মাস্ক পরা অবস্থায় ইডেন থেকে বেরোন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। শুরুতে অনেকেই তাঁকে চিনতে পারেননি। তবে ক্যামেরা তাঁর পিছু ছুটতেই ইডেন জনতা তাঁকে চিনে ফেলে। ভিড়ের মধ্যে থেকেই আওয়াজ উঠল ‘রিমুভ এটিকে’। যা সঞ্জীব গোয়েঙ্কার অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। কিছুটা রেগেই গাড়িতে উঠলেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করতেই, উত্তর ‘যা বলার পরে বলব, এখন নয়।’ মোহনবাগানের নতুন কমিটি আসার পর সমর্থকদের আশ্বাস দিয়ে মোহন সচিব দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘এই বিষয়ে তাঁরা সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে কথা বলবেন।’ কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, বাগান জনতার ধৈর্য্যের বাধ ভাঙছে। ইডেনে ক্রিকেট দেখতে এসেও কিছুটা সেই বিক্ষোভের আঁচ পেলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।

লখনউ-ব্যাঙ্গালোর ম্যাচটা দেখার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। এলিমিনেটরের ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। সব টিকিট আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। বিরাট কোহলি কে দেখার জন্য বুধ বিকেলেও টিকিটের খোঁজ করলেন অনেকে। যারা পেলেন তারা ভাগ্যবান আর যারা পেলেন না, একরাশ হতাশা নিয়ে ফিরে গেলেন। ম্যাচের আগেই আকাশ কালো করে এসে শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া। দর্শকদের মনেও তখন শঙ্কা। এই বুঝি, ম্যাচটা ভেস্তে গেল। দু এক পশলা বৃষ্টি ম্যাচ শুরুতেও বিঘ্ন ঘটাল। সাড়ে সাতটার ম্যাচ শুরু হল আটটা দশ মিনিটে। গ্যালারির প্রায় পুরোটাই আরসিবির দখলে। বাকি কয়েকটা অংশ জুড়ে থাকলেন লখনউয়ের সমর্থকরা।

গ্রাউন্ড কভার সরতেই ইডেন জুড়ে সেই গগনভেদী চিৎকার। গতকালের দর্শক সংখ্যাকেও ছাপিয়ে যায় এ দিনের ম্যাচ। এর আন্দাজ অবশ্য আগেই পাওয়া গিয়েছিল। খেলার প্রথম বল শুরু হতেই আরসিবির জন্য গলা ফাটাতে শুরু করে ইডেন জনতা। দেখে বোঝার উপায় ছিল না চিন্নাস্বামী নাকি ইডেন। মনে হচ্ছিল যেন হোম গ্রাউন্ডেই খেলতে নেমেছেন বিরাটরা।

ম্যাচের প্রথম ওভারে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান আরসিবি অধিনায়ক ফাভ ডুপ্লেসি। মহসিন খানের সুইং সামলাতে জেরবার বিরাটও। ফার্স্ট ডাউন ব্যাট করতে নেমেই ভয়ডরহীন ব্যাটিং করতে দেখা যায় রজত পাতিদারকে। উল্টো প্রান্তে বিরাট, ম্যাক্সওয়েল, লোমরোররা একে একে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। দেখে মনে হয়নি স্কোরবোর্ড ১৬০ পেরোবে। ডাকাবুকো রজত পাতিদার আর দীনেশ কার্তিকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের দৌলতে ২০৭ রান করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।

ইডেন অনেক নতুন তারকার জন্ম দেয়। এই ইডেনেই তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি। বিরাট সমর্থকদের হতাশা ভুলিয়ে দেন ২৮ বছরের রজতই। ইন্দৌরের ছেলের আইপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি। তাও আবার আইপিএলের এলিমিনেটরের মতো ম্যাচে। হাউসফুল ইডেন নতুন তারকার জন্ম দেখল। বোর্ড সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘরের মাঠে বোর্ডের বাকি কর্তারাও দেখে নিলেন বিরাটের কপিবুককে। রজত পাতিদারের স্টান্স থেকে ব্যাটিং স্টাইল দেখে অনেকেই বিরাট ভেবে ভুল করছিলেন। লখনউয়ের অধিনায়ক কেএল রাহুলের লড়াই বিফলে গেল।



Source link